
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু ওই ৩২ দলের নয়। সারা বিশ্বের সবার। বাংলাদেশেও আমজনতার সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা উৎকর্ণ হয়ে আছেন বিশ্বকাপের বাঁশি বেজে ওঠার। ফুটবলার-ক্রিকেটার বলুন কিংবা নায়ক-গায়ক অথবা রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ী, বিশ্বকাপ নিয়ে নিজস্ব গল্প আছে প্রত্যেকের। তাই নিয়েই এ ধারাবাহিক আয়োজন। আজ বলছেন চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।আমাদের শুধু একটা প্রিয় দল থাকলেই হয় না। একটা অপ্রিয় দলও লাগে। তাহলে পাল্টাপাল্টি কথার লড়াইও আমরা অবলীলায় শুরু করে দিতে পারি। তাতেই বিষয়টা আরো জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপ ফুটবল এ কারণেই আমাদের দেশে আরো বেশি আকর্ষণীয়। জানি না, আমার কথার সঙ্গে আর কেউ একমত হবেন কি না। ভেবে দেখুন, সেই আদিকাল থেকেই কিন্তু আমরা এ চর্চাটা করে আসছি। রাজনীতিতে আমাদের আওয়ামী লিগ-বিএনপি আছে। খেলাধুলায় আমাদের আবাহনী-মোহামেডান আছে। সাহিত্যে আমাদের আছে হুমায়ূন-অহুমায়ূন। প্রতিটা ক্ষেত্রেই পরিষ্কার একটা বিভাজন আছে। কেউ এদিকে তো কেউ ওদিকে। প্রত্যেকের কাছে নিজ নিজ অবস্থানই সঠিক বলে মনে হয়। তা নিয়ে একে অন্যের সঙ্গে বেধেও যায়! আর বচসা করতে বোধ হয় আমরা আরামও পাই! ব্রাজিলের ভক্ত কিন্তু আর্জেন্টিনাবিরোধী নই বিশ্বকাপ ফুটবল এলেও আমরা বচসায় মেতে উঠি। কারণ এখানেও আছে বিভাজন। আমাদের কেউ ব্রাজিল সমর্থক তো কেউ আবার আর্জেন্টিনার। বলছি না যে আর কোনো দেশের সমর্থক এখানে নেই। তবে তারা সংখ্যায় এত নগণ্য যে উল্লেখ করার মতো নয়। সিংহভাগ লোকই লাতিন আমেরিকার দুই দলে বিভক্ত। ব্রাজিলভক্তদের কাছে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা রীতিমতো শত্রুর মর্যাদা পান! আবার আর্জেন্টিনাভক্তরাও কম যান না। ব্রাজিল সমর্থকদের পারলে শূলে চড়িয়ে দেন! বিশ্বকাপ এলেই এ দুই শিবিরের ঝগড়াঝাঁটি তুঙ্গে পৌঁছায়। যা আমাদের কাছে বৈশ্বিক ফুটবলের আবেদন আরো বাড়িয়ে দেয়। এ আসর পৃথিবীর সব জায়গাতেই 'স্পেশাল'। ফুটবল অন্তপ্রাণ বাংলাদেশিদের কাছে তো বটেই। আগামী একটি মাস আমরা ফুটবলানন্দের স্রোতে ভেসে যাব। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা শিবিরের মধ্যে মধুর ঝগড়া-বিবাদও লেগেই থাকবে। আমি অবশ্য নিজেকে বচসার উর্ধ্বেই রাখতে পারব বলে বিশ্বাস। ব্রাজিল সমর্থক হয়েও জোর দিয়েই কথাটা বলতে পারছি। কারণ আমি আবার আর্জেন্টিনাবিরোধীও নই। ব্রাজিলের খেলার ভক্ত কিন্তু লিওনেল মেসিকে পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড় বলে মানতে কোনো সংকোচ নেই আমার। সমর্থক যদি হই এই পদের, তাহলে আমার সঙ্গে ঝগড়া বাধাতে আসার বোকামি কেউ করবে না বলেই আশা করতে পারি! যদিও দেশের ফুটবলে এতটা উদার সমর্থক আমি কখনোই ছিলাম না। পাঁড় আবাহনী সমর্থক বলতে যা বোঝায়, আমি ছিলাম তাই। স্টেডিয়ামে বসে আবাহনী-মোহামেডানের খেলাই শুধু দেখিনি চির প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে গলা ফাটানো আমি ঢিল যেমন খেয়েছি, তেমনি পাল্টা ছুড়েছিও। তবে বিশ্ব ফুটবলের ক্ষেত্রে আমি এমনটা নই, আগেই বলেছি। শত্রুর দল ফুটবল জাদু দেখালেও আমার ভালো লাগে। যেমন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ম্যারাডোনাকে দেখে। সেটিই আমার দেখা প্রথম বিশ্বকাপ। যে বিশ্বকাপের ব্রাজিল-ফ্রান্স ম্যাচটিকে ইতিহাসের সেরা বলে থাকেন বেশির ভাগ ফুটবল বিশ্লেষকই। ওই বিশ্বকাপের ব্রাজিল 'টাচ' ফুটবলের সুন্দরতম প্রদর্শনীই যেন করেছিল। দল হিসেবে পছন্দের শীর্ষে সেই থেকে ব্রাজিল। তবে আপাতত খেলোয়াড় হিসেবে পছন্দের শীর্ষে আছেন একজন আর্জেন্টাইনই। লিওনেল মেসির জাদু দেখার অপেক্ষায়ও থাকব আমি। তবে মনের কোণে একটু সংশয়ও আছে যে এবার কি আসলেই খুব ভালো বিশ্বকাপ আমরা দেখতে পাব! ক্লাব ফুটবল খেলে খেলে ক্লান্ত অনেকেই ইতিমধ্যে ঝরে পড়েছেন। আরো কতজন না ঝরে পড়েন! এই ভয়ও আছে আমার।
0 Response to "ব্রাজিলের ভক্ত কিন্তু আর্জেন্টিনাবিরোধী নই"
Post a Comment